
দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কেবল ফলাফলকেন্দ্রিক ও মুখস্থনির্ভর হয়ে পড়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধাবী ও দক্ষ করে গড়ে তোলার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যবইয়ের চেয়ে নোট-গাইড এবং স্কুলের চেয়ে কোচিং সেন্টারের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীরা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হতে পারেনি, বরং তারা নিষ্ক্রিয়ভাবে কেবল পরীক্ষার গণ্ডিতে আটকে আছে। শিক্ষাবিদ আবুল মোমেনের মতে, এই সংকটের কারণে সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব প্রকট হচ্ছে।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকার ২০২৮ সাল থেকে নতুন পদ্ধতির কাজ শুরু করেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে কেবল নতুন পরিকল্পনা নয়, শিক্ষায় বড় ধরনের বিনিয়োগ বা 'মেগা প্রকল্প' গ্রহণ করা ছাড়া এই আমূল পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব। সংস্কারের সফলতার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়কেই সচেতন হতে হবে। গণমাধ্যমকেও পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি না করে, সত্যিকারের দক্ষ জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিশেষে, সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের উচিত বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে গভীর আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করা, যা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশে সহায়ক হবে।
TANGENT editorial desk — independent news and analysis.
এলডিসি উত্তরণ আমাদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনই এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জও বটে। আমাদের নীতিগত সংস্কার দরকার।
নিবন্ধটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বিশ্লেষণধর্মী। আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা রাখবে আশা করি।