
দৈনন্দিন জীবনে খাবার সতেজ ও জীবাণুমুক্ত রাখতে আমরা নিয়মিত প্লাস্টিকের মোড়ক বা প্যাকেটের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু এই অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, প্লাস্টিকের সংস্পর্শে থাকা খাবার ও প্লাস্টিকের মধ্যে শোষণ, মাইগ্রেশন এবং পারমিয়েশনের মতো প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক বিনিময় ঘটে। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রা বা চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ক্ষতিকারক উপাদান খাবারে মিশে যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে।
প্লাস্টিককে মূলত তাপের আচরণের ওপর ভিত্তি করে থার্মোপ্লাস্টিক ও থার্মোসেট—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে খাবার মোড়াতে থার্মোপ্লাস্টিক বেশি ব্যবহৃত হয়। ল-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই) জাতীয় প্লাস্টিক নমনীয় হওয়ায় এটি খাবার সংরক্ষণে জনপ্রিয়। তবে এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান, যেমন প্লাস্টিসাইজার বা বিপিএ, তাপের সংস্পর্শে এলে খাবারে মিশে গিয়ে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বর্তমানে খাবারের মোড়কে এসব রাসায়নিকের ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করছে।
তবে প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা অবলম্বন করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা খাবার গরম করার জন্য সরাসরি প্লাস্টিকের পাত্র বা মোড়ক ব্যবহারের পরিবর্তে কাঁচ বা সিরামিকের পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এছাড়া গরম বা চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিকের সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। মনে রাখতে হবে, প্লাস্টিক অপব্যবহারের হাত থেকে খাবার রক্ষা করলেও এর অসতর্ক ব্যবহার আমাদের শরীরের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।
TANGENT editorial desk — independent news and analysis.
এলডিসি উত্তরণ আমাদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনই এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জও বটে। আমাদের নীতিগত সংস্কার দরকার।
নিবন্ধটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বিশ্লেষণধর্মী। আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা রাখবে আশা করি।