
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের প্রক্রিয়াটি এখনো ঝুলে রয়েছে। গত ১৮ আগস্ট অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের পদত্যাগের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানে নতুন অভিভাবক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, পিএসসির পরবর্তী প্রধান হিসেবে একজন অভিজ্ঞ সাবেক আমলা নাকি কোনো শিক্ষাবিদকে দায়িত্ব দেওয়া হবে—এই নীতিগত দ্বিমুখী অবস্থান থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হচ্ছে।
প্রশাসনের একটি অংশ মনে করে, সিভিল সার্ভিসের জটিল কাঠামো বোঝার জন্য একজন সাবেক আমলা বেশি উপযুক্ত। অন্যদিকে, পিএসসির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা মনে করছেন, গত মেয়াদে একজন শিক্ষাবিদ যেভাবে প্রশাসনিক সংস্কার, বিসিএসের জট নিরসন এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা ছিল কার্যকর।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো সুপারিশ বা চূড়ান্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পৌঁছায়নি। সংবিধানের ১৩৭ ও ১৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি পিএসসি চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন।
এদিকে পিএসসির সাবেক নেতৃত্বের সাথে আমলাতন্ত্রের ‘প্রাতিষ্ঠানিক টানাপোড়েন’-এর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তন পিএসসির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, “চেয়ারম্যানের পরিচয় যাই হোক, তাঁকে হতে হবে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত, সাহসী এবং স্বচ্ছ।”
বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সদস্য নাজমুল আমীন মজুমদারের পরিচালনায় পিএসসির রুটিন কাজ ও ৫০তম বিসিএসের ভাইভা চলছে। তবে চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, মেধাভিত্তিক প্রশাসন নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত একজন স্থায়ী ও নিরপেক্ষ চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
TANGENT editorial desk — independent news and analysis.
এলডিসি উত্তরণ আমাদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনই এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জও বটে। আমাদের নীতিগত সংস্কার দরকার।
নিবন্ধটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বিশ্লেষণধর্মী। আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা রাখবে আশা করি।