
বর্তমান যুগের যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা, শ্রেণিকক্ষ, সেমিস্টার পদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির বাইরে মধ্যযুগের ইসলামি স্বর্ণযুগে শিক্ষার রূপ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময় শিক্ষা কেবল সিলেবাস বা ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম ছিল না, বরং তা ছিল প্রজ্ঞাবান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর নিবিড় সম্পর্কের এক অনন্য সমন্বয়।
প্রাথমিক যুগে শিক্ষার মূল কেন্দ্র ছিল মসজিদ, শিক্ষকের ব্যক্তিগত পাঠশালা (হালকা) এবং পরবর্তীতে ওয়াকফভিত্তিক মাদ্রাসা। সেই সময়ে একজন পণ্ডিতের মর্যাদা নির্ধারিত হতো তাঁর শিক্ষকদের সাহচর্য, মৌলিক গ্রন্থ পাঠ এবং গবেষণার গভীরতার ওপর ভিত্তি করে। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মতো মনীষীরা তাঁদের শিক্ষকদের দীর্ঘ সান্নিধ্যে থেকেই জ্ঞানের ভিত গড়েছিলেন।
সেই যুগে কোনো অভিন্ন জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ছিল না। শিক্ষার্থীরা কোরআন ও আরবি ব্যাকরণের প্রাথমিক পাঠ শেষে হাদিস, ফিকহ, তাফসিরের পাশাপাশি গণিত, চিকিৎসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতো বিষয়েও গভীর জ্ঞান অর্জন করতেন। জ্ঞানচর্চার এই স্তরবিন্যাস নিয়ে ফারাবি, গাজালি ও ইবনে খালদুনের মতো মনীষীরা কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেছেন।
শিক্ষাদান পদ্ধতিতে তথ্য মুখস্থ করানোর চেয়ে শিক্ষকের আদর্শ ও আদবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। শিক্ষার্থীরা বৃত্তাকারে (হালকা) বসে শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি পাঠ গ্রহণ করতেন এবং যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করতেন। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কাগজের সার্টিফিকেটের বদলে শিক্ষকের দেওয়া ‘ইজাজাহ’ বা সনদ ছিল সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্বীকৃতি। এই সনদের মাধ্যমে শিক্ষক তাঁর ছাত্রকে সেই বিদ্যা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি দিতেন, যার ধারাবাহিকতা সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত পৌঁছাত।
শিক্ষাব্যবস্থার এই অগ্রযাত্রায় ‘ওয়াকফ’ ব্যবস্থা ছিল বিশাল এক চালিকাশক্তি। বিত্তবানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে জমিজমা দান করতেন, ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ হতো। নিজামিয়া মাদ্রাসা বা আল-আজহারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থাতেই গড়ে উঠেছিল। যদিও ঊনবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা শিক্ষা কাঠামোর প্রভাবে এই ধারা পরিবর্তিত হয়েছে, তবুও প্রাচীন ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার নৈতিক মূল্যবোধ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গভীর সম্পর্ক আজও আধুনিক শিক্ষার জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
TANGENT editorial desk — independent news and analysis.
ফিচারভোজনরসিকদের জন্য বিন্নি চালের তৈরি খাবার বেশ জনপ্রিয়। বাড়িতে খুব সহজে সুস্বাদু বিন্নি চালের ভুনা খিচুড়ি তৈরির একটি সহজ রেসিপি নিচে দেওয়া হলো। এই খাবারটি তৈরির জ
ফিচারবিকেলের নাস্তায় ভিন্নধর্মী ও সুস্বাদু খাবারের খোঁজ করলে তৈরি করতে পারেন বিন্নি চালের চপ। এটি তৈরি করা যেমন সহজ, খেতেও তেমন মজাদার। উপকরণ: রান্নার জন্য প্রয়োজন
এলডিসি উত্তরণ আমাদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনই এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জও বটে। আমাদের নীতিগত সংস্কার দরকার।
নিবন্ধটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বিশ্লেষণধর্মী। আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা রাখবে আশা করি।